বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ সমাগত। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর, আগামি ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় বসতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এবারের অধিবেশন সাধারণ কোনো সংসদীয় কার্যক্রম নয়, বরং এটি রাষ্ট্র পুনর্গঠনের এক বড় মঞ্চ।
নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত কাজের মধ্য দিয়ে:
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন: সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, অধিবেশনের শুরুতেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। যদিও সভাপতি কে করবেন তা নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা ছিল, তবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে।
১৩৩টি অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের শাসনকালে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, অধিবেশন শুরুর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এগুলোকে আইনে রূপান্তর করতে হবে, অন্যথায় এগুলো বাতিল হয়ে যাবে। এটি বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
এবারের সংসদ অধিবেশনের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং সংবিধান সংস্কার ইস্যু।
দ্বিমুখী শপথের বিতর্ক: নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংসদ-সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি বিরোধী দলের সদস্যদের ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবেও আলাদা শপথ নিতে হয়েছে। বিরোধী দলসহ অনেকের মতে, একই দেশে দুই ধরনের আইন বা সাংবিধানিক সত্তা থাকা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে।
সংস্কারের দায়ভার: নির্বাচনের পর বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তাদের ওপর জুলাই সনদের সংস্কারগুলো বাস্তবায়নের আইনি ও রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। এটি সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র তর্কের জন্ম দিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের সংসদ গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে অত্যন্ত প্রাণবন্ত হবে। গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের প্রত্যাশা ও জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সংসদকে কার্যকর করতে হবে। সরকার ও বিরোধী দল যদি জুলাই সনদের মূল স্পিরিটের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে, তবেই সংসদীয় বিতর্ক ইতিবাচক পথে এগোবে।
১২ মার্চের সংসদ অধিবেশন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি ২০২৬-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ‘পরীক্ষাগার’। একদিকে অধ্যাদেশ পাস করা, অন্যদিকে সংবিধান সংস্কারের আইনি জটিলতা—এই দুইয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে নতুন সরকারের বড় পরীক্ষা। সরকার যদি স্বচ্ছতা ও আলোচনার মাধ্যমে এগোতে পারে, তবেই জুলাই বিপ্লবের সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব। সংসদের উত্তাপ যেন সংকটে রূপ না নেয়, সেদিকে নজর রাখা হবে দেশবাসীর মূল লক্ষ্য।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অধিবেশন আহ্বান বিজ্ঞপ্তি (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ও পালস বাংলাদেশ পলিটিক্যাল অ্যানালিটিক্স।
বিশ্লেষক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
সংসদীয় কার্যক্রম ও সংস্কার ইস্যুর প্রতিদিনের আপডেট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন: ওয়েবসাইটে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |